১৭টি কারন রয়েছে ফ্রিল্যান্সিং শেখার

ফ্রিল্যান্সিং

১৭টি কারন রয়েছে

ফ্রিল্যান্সিং শেখার আসুন তা জেনে নেইঃ

আমরা সবাই কম-বেশি অনলাইনে আয়ের কথা শুনে থাকি।কিন্তু কিভাবে এই আয় নিজেও করতে পারি সেই বিষয়ে আমাদের অনেকেরই ভালো ধারনা নাই মূলত তাদের জন্যই আমার আজকের এই পোস্ট । “১৭টি কারন রয়েছে ফ্রিল্যান্সিং শেখার” , রয়েছে:-আশা করি মনোযোগ সহকারে পুরো লেখাটি পড়বেন এবং পোস্ট শেষে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

 

১)নিজেকে চেনানোঃ

হয়তো আপনি চাকুরি করছেন বা স্টুডেন্ট বা বেকার যে কোনো কিছুই আপনি হতে পারেন ।।

আর আপনার আশেপাশের লোকজনই শুধু আপনাকে চিনে জানে আপনি কে বা কি করছেন।

কিন্তু অনলাইন জগত আপনার আশেপাশের এই পরিমন্ডলের চেয়ে বেশি ব্যাপক।আপনি চাইলেই এই জগতে আপনাকে পরিচিত করে নিতে পারেন নিজের কাজ দিয়ে এই ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে সবচেয়ে ভালো উপায়।

তাই আপনি চেস্টা করুন আমাদের সাথেই থাকুন আশা করছি আপনাকে আজ বা কাল অনেকেই চিনবে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে।

উদাহরন হিসেবে ফ্রিল্যান্সার নাসিম ,ফখরুল ,আল-আমিন কবির,লাজুক হাসান  সহ অনেককেই আজকে সারা দুনিয়ার লোকজন খুব ভালভাবেই চিনে জানে ।

 

২)আপনার ২য় ইনকাম সোর্সঃ

আজকাল শুধু আমাদের দেশেই নয় পুরো দুনিয়ায় দ্রব্য মুল্যের যে আকাশচুম্বী ভাব দেখা দিয়েছে এতে করে আপনি,

আমি বা আমাদের মতন অনেকেই হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি এই বাজারের সাথে নিজেকে তাল মিলিয়ে চালাতে।

আর এই কারনেই আপনি যেই পেশায় থাকেন না কেন আপনাকে ২য় কোনো ইনকামের চিন্তা করতেই হয়।

আর ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে আপনার সেই পথ।আরেকটি উদাহরণ আপনি আপনার অফিসের পরিবেশ যে সবসময় একই রকম পাবেন এমন কিন্তু হবে না।।

এমন হতে পারে বছরের শুরুতে আপনার অবস্থা ভালো যেতেই পারে আবার বছরের শেষের দিকে বিভিন্ন কারনে খারাপ যেতে পারে আর এজন্যই আপনাকে সবসময়ই একটা ২য় ইনকামের পথ খোলা রাখতে হবে যাতে আপনার জীবনের চলার পথ থমকে না পরে ।।

আশাকরি বুজতে পেরেছেন আমি কি বলছি।

৩)অনলাইনেই হতে পারে আপনার ক্যারিয়ারঃ

বেকারত্তের সমস্যা দিন দিন শুধু বেড়েই চলছে ।।সবাই চাকুরি করতেই চায় কিন্তু চাইলেই তো আর সবকিছু পাওয়া যায় না।।

আমাদের দেশের মতো সকল দেশেই চাকুরিতে প্রবেশের বয়স বেধে দেয়া আছে যার ফলে আপনিও  সেই কোটার ভিতরে পরতে পারেন।

কিন্তু অনলাইন জগতে ধরা বাধা কোনো বয়স দেয়া নাই তাই আপনি চাইলেই যেকোন একটি কাজ শিখে এখানে চাকুরি বা ব্যবসায় করতে পারেন।

৪)অনলাইন মার্কেটিং বনাম ফিজিকাল মার্কেটিং   ঃ 

 এসইও হচ্ছে অনলাইনে আপনি কোনো একটি কোম্পানির হয়ে কাজ করে দিলেন,তার বিনিময়ে আপনি মাস শেষে বা কাজ শেষে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

ফিজিকাল মার্কেটিং টাও অনেক কস্টের রোদে পুরে বৃষ্টি তে ভিজে কাজ করতে হয়।

এক্ষেত্রে আপনি অনলাইন মার্কেটিং কে প্রাধান্য দিতে পারেন।আর এখানেও আপনি কাজ করতে করতে  অভিজ্ঞ হয়ে গেলে বস হয়ে গেলেন।তখন অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকবেন আপনি।

৫)নিজের উপর আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলবেনঃ  

প্রথমে যেকোনো কাজ শুরু করেই আয় করা খুব সহজ ব্যাপার না।

আপনাকে  আগে ভালো ভাবে যেকোনো একটি কাজ রপ্ত করতে হবে।।অল্প অল্প করে প্রতিনিয়ত কিছু কাজ করতে হবে।

যত দিন যাবে আপনার অভিজ্ঞতার ঝুড়ি ভারি হবে। এতটা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে করতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

অফিসের নিত্যদিনের ঝামেলা

অনলাইনে আয়
অফিসের নিত্যদিনের ঝামেলা

 

৬)আপনি আপনার নিজের বসঃ  

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা অন্যের অধীনে কাজ করতে পছন্দ করেনা।

অফিসের চেয়ে বসের বানানো নিয়ম অনেক বেশি হয়ে থাকে তাই প্রাইভেট চাকুরী করা সবার পক্ষে হয়ে উঠে না ।

তাই আপনার জন্যই ফ্রিল্যান্সিং ।আজই একটি কাজ শিখে নিন আর নেমে পরুন নিজের কাজে।

৭)শুক্রবারের জন্য অপেক্ষা করাঃ

আপনি একটি অফিসে কাজ করেন আর সেখানে সাপ্তাহিক একদিন বন্ধ থাকে এটাই নিয়ম।

আমদের দেশের বেশিরভাগ অফিসগুলোই শুক্রবারে বন্ধ থাকে।

আর এই একটি দিনের আশায় আমাদের পুরো সপ্তাহ কেটে যায় কিন্তু আপনি যখন একজন সফল ফ্রিল্যান্সার তখন আপনি আর অন্যদের মত এই একদিনের জন্য অপেক্ষা করবেন না।

আপনি আপনার নিজের কাজ শেষ করলেই পরের দিনই আপানার জন্য শুক্রবার।

৮)কোন অফিসের রাজনীতি থাকবে নাঃ 

প্রত্যেক অফিসেই এমন কিছু লোক থাকে যাদের কাজই থাকে শুধু অন্যের দোষ খুঁজে বের করা,অফিসের পরিবেশ নষ্ট করা।

এই সেই বিষয় নিয়ে রাজনীতি -দলাদলি করা।কিন্তু আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার এইসমস্ত আজেবাজে বিষয়ের ধারে কাছে আপনাকে থাকতে হবে না।

নিজের কাজ নিজেই করবেন এখানে রাজনীতি বা অন্য বিষয় আসবে না।

৯)আপনি আপনার নিজের কাজের ঘন্টা নির্বাচন করুনঃ  

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে  আপনি আপনার নিজের কাজের ঘন্টা নির্বাচন করতে পারেন।

যেখানে অন্য সবাই 9 -5 কাজ করছে, তাই আপনাকে আর তাদের মত ঘড়ি ধরা কাজ করতে হবেনা।

আপনি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এরচেয়ে কম বেশি ঘন্টা কাজ করতে পারবেন বা আপনি চাইলে ফিক্সড বাজেটের কাজও করতে পারেন।

১০)আপনি যেকোন জায়গা থেকে কাজ করতে পারেনঃ 

 যারা অফিস করেন নিয়ম করে প্রতিদিন সকালে আপনাকে অফিসের পথে যেতে হবে।

কিন্তু একজন ফ্রিল্যান্সার চাইলে বাড়িতেই বসেই তার কাজ করতে পারেন।আবার সে বাহিরে কাজে যাচ্ছে বাসে বা গাড়িতে বসেই ল্যাপটপে সে তার প্রয়োজনীয় কাজ করে ফেলতে পারেন।

যেহেতু অনলাইনেই সে কাজ করবে তাই তার অফিসের পথে যাওয়ার কোনো দরকারই পরে না।

১১)আপনি আপনার ক্লায়েন্ট বেছে নিতে পারেনঃ

  যখন আপনি কোনো একটি অফিসে কাজ শুরু করেন  তখন আপনি চাইলেই সেটি পাল্টাতে পারবেন না।

যতই অসুবিধা থাকুক আমরা সবাই তা মানিয়ে নেয়ার জন্য চেস্টা করতে থাকি।

কিন্তু অনলাইনে কাজ করে আপনি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে, আপনি কার সাথে কাজ করবেন তা আপনি নিজেই বাছাই করতে পারবেন  এবং কাজ করতে পারবেন।

১২)অফুরন্ত আয়ের সুযোগঃ 

আপনি যখন একটি চাকুরী করছেন  ঠিক আছে মাস শেষে আপনি নির্দিষ্ট একটা পরিমান বেতন সেখান থেকে পেয়ে যাচ্ছেন।

নিজেকে অনেক নিরাপদ ভাবছেন কিন্তু আপনি জানেন কি এখন লোক আউটসোর্সিং করে তারচেয়ে অনেক অনেক গুন বেশি আয় করতেছে।

হয়তোবা সে আপনাদের পাশের ফ্ল্যাটেই থাকছে কিন্তু আপনি তা ভুলেও জানতে পারছেন না।

১৩)বেশি কাজ করলেই বেশি আয় নয়ঃ 

আমরা জানি যে আমাদের দেশে ব্যাংকিং আওয়ার ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত।কিন্তু আপনি জানেন কি যারা ব্যাংকে জব করে তারা কাজ শেষ করে বের হতে হতে কয়টা বাজে।

বেশি কাজ করতে হয় বলেই যে তাদের বাড়তি আয় হয় এমন কিন্তু নয়।এক্ষেত্রে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার কিন্তু অন্যরকম।

সে যতবেশি কাজ করবে তার আয়টাও কিন্তু তত বেশিই হয়ে থাকে।

১৪) 100% কাজের নিরাপত্তা আছে অনলাইনেঃ  

আপনার বস  চাইলেই যেকাউকে  অফিস থেকে  বাদ করে দিতে পারেন।আপনাদের অফিসের কাজের চাপ কম মালিক চাইলেই খরচ কমাতে লোক ছাটাই করতে পারে।

যদিও অনলাইনেও এমনটি হয়ে থাকে না।

যখন প্রচুর পরিমানে কাজের চাপ থাকে বায়ার কাজ দিয়ে থাকে তখন ফ্রিল্যান্সার বাড়তি কাজ করে পুষিয়ে নিতে পারে।

তাছাড়া এখানে সবসময়ই কম বেশি কাজ থাকেই তাই কাজ হারানোর ভয় একেবারেই নেই বললেই চলে।

১৫)কোনও ৩য় পক্ষ নয়ঃ   

যখন আপনি অন্য কারো জন্য কাজ করেন, তখন আপনি আপনার নিয়োগকর্তার কথাই চিন্তা করতে হয় বেশি।

কিন্তু একজন ফ্রিল্যান্সের বেলায় এটি ঘটবে না কারণ আপনি যে সমস্ত অর্থ উপার্জন করেন তা সরাসরি আপনার নিজের পকেটেই আসবে।

কারো মাধ্যম হয়ে এইটাকা আপনার কাছে আসছে না।

১৬)নিত্যনতুন কাজ শিখতে পারবেনঃ 

 আপনি আপনার অফিসে আপনার নিজের রুটিন মাফিক কাজগুলোই করে থাকেন শুধু।

এর বাহিরে আমাদের আর তেমন যাওয়ার সুযোগ হয় না।কিন্তু যিনি অনলাইনে কাজ করেন তিনি প্রতিদিনই কিছু না কিছু নতুনভাবে শিখছে যারফলে সে আপনি বা আমার চেয়ে অনেক দিক থেকেই এগিয়ে থাকছে।

১৭)ফ্রিল্যান্সিং গর্বিত পেশাঃ 

 সবাই অনলাইনে আয় করতে পারে না। এটা করতে সক্ষম হতে একটি নির্দিষ্ট ধরনের ব্যক্তি লাগে।

অনেক মানুষ আছে যারা ৫/১০লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ গিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অনেক কমই ইনকাম করতে পারেন।

সেখানে একজন ফ্রিল্যান্সার দেশে বসেই বেদিশি মুদ্রা আয় করছে এটা কিন্তু গর্বের কথা,তাই নিজেকে এই পেশায় আনতে গেলে আপনাকে আগে ভালোভাবে কাজ শিখে আসতে হবে তাহলেই আপনি নিশ্চিত আয় করতে পারবেন নতুবা নয়।

আশাকরি আপনি আমাদের সাথে একমত হবেন এবং নিজেকে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তৈরি করার জন্য আজ থেকে কাজে লেগে পরবেন।

আর আমরা তো আছি আমাদের যতটুকু সম্ভব আমরা সাহায্য করার চেস্টা করবো।।

সবাই ভালো থাকবেন।আর আমাদের পরের পোস্টগুলোও দেখবেন হয়তোবা আপনি এর মধ্য থেকেই আপানার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় খুঁজে পেয়ে যেতে পারেন।

 

 

 

 

 

 

Faruk Hossain

About Faruk Hossain

I am a digital marketing expert.I love to work on my site. After all, day long when I finished my office I engaged to My OutsourcingPark and really that time I enjoyed so much. Just keep in touch to get newly Outsourcing Tips.

View all posts by Faruk Hossain →

5 Comments on “১৭টি কারন রয়েছে ফ্রিল্যান্সিং শেখার”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।